কাজী তৌফিক এলাহী তারেক: বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেও বেকারত্ব সমস্যা দেশের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার ও বিভিন্ন সংস্থার নেওয়া নানামুখী উদ্যোগ সত্ত্বেও দেশের বেকার যুবকদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে চাকরির অভাব এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
বেকারত্বের বর্তমান চিত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, দেশের বেকারত্বের হার প্রায় ৪.২% হলেও শিক্ষিত যুবসমাজের মধ্যে এই হার প্রায় দ্বিগুণ। প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করলেও, তাদের প্রত্যাশিত কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষমতা চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে।
বেকারত্বের কারণ: বেকারত্ব বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হলো আধুনিক বিশ্বের সাথে যোগসম্পর্কহীন শিক্ষাব্যাবস্থা। অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাত্ত্বিক শিক্ষার উপর নির্ভরশীল থাকলেও বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে। এছাড়া, শিল্পখাত ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবও বেকারত্ব বৃদ্ধির একটি বড় কারণ।
অপরদিকে, অটোমেশন ও প্রযুক্তির বিকাশের ফলে অনেক প্রচলিত চাকরি হারিয়ে যাচ্ছে, যেখানে নতুন প্রযুক্তিগত দক্ষতার চাহিদা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ও কর্মপ্রার্থী এসব আধুনিক দক্ষতা অর্জনে সক্ষম হচ্ছে না।
সম্ভাব্য সমাধান: বিশেষজ্ঞদের মতে, বেকারত্ব সমস্যার সমাধানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা হলে চাকরির বাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে তরুণরা নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে নতুন শিল্পখাত ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।
উপসংহার: বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণ সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদে একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা গেলে বেকারত্ব হ্রাস পেয়ে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।