ইসরাত জান্নাত নাজমিন : সিলেটে দিনদুপুরে এক ভয়াবহ ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হয়েছে যুবদল নেতা নেওয়াজ। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে সিলেটের একটি আবাসিক এলাকা আখালিয়া নেহারিপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, নেওয়াজ নামের এক যুবদল নেতা সুমনা আক্তার নামের এক তরুণীকে জোরপূর্বক তার বাসায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনার সময় তরুণী চিৎকার করলে পাশের বাসার লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিন্তু নেওয়াজ সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ধর্ষণের শিকার তরুণীকে উদ্ধার করে স্থানীয় এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করেছেন এবং প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন। তরুণী বর্তমানে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং তার পরিবার আইনি সহায়তা চেয়েছেন।
পুলিশ ঘটনাটি তদন্তের জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে। তবে অভিযুক্ত নেওয়াজ এখনও গ্রেপ্তার হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং তাকে শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে, এ ঘটনায় স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীরা অভিযুক্ত নেওয়াজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, দলের কোনো সদস্য এমন জঘন্য অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন, দিনদুপুরে এমন ঘটনা ঘটায় এলাকার নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে এবং নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে, তরুণীর পরিবার আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলেছেন, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা এই লড়াই চালিয়ে যাবেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে এবং তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ ঘটনায় সিলেটের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এই ঘটনা নারী নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আবারও সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। আশা করা যায়, দ্রুতই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার দেওয়া হবে।
rn08g9