আব্দুল্লাহ মোঃ তাহের: ছাত্রদলের সন্ত্রাসী আবারও শিক্ষাঙ্গনে অশান্তির আগুন জ্বালিয়েছে। তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা ও কুয়েটে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা আজ ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছে। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংঘাত, হামলা ও সহিংসতা তাদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ার কথা জ্ঞানচর্চা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের, কিন্তু আজ সেখানে চলছে ক্ষমতার লড়াই ও রাজনৈতিক হানাহানি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যারা শুধু পড়াশোনা করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চায়, তারা আজ অসহায়। তাদের নিরাপত্তা বলতে কিছুই নেই।
এই দাঙ্গা ও সহিংসতার পেছনে মূলত রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর প্রতিযোগিতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দায়ী। ছাত্রদলের সন্ত্রাস শুধু ক্যাম্পাসের পরিবেশই নষ্ট করছে না, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তাকেও ঝুঁকিতে ফেলেছে। ক্লাসরুম, পরীক্ষা হল, এমনকি হোস্টেলেও তারা নিরাপদ নয়। সহিংসতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছে না, যা তাদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ। তাদের উচিত শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক সংঘাতের মঞ্চ বানানো থেকে বিরত থাকা। দ্বিতীয়ত, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়ানো এবং দাঙ্গা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তৃতীয়ত, শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তাদের উচিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সোচ্চার হওয়া।
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। এই মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করতে হলে শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করতে পারে, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সমাজের দায়িত্ব। ছাত্রদল ও শিবিরের দাঙ্গা বন্ধ করে শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, নয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি ধ্বংস হয়ে যাবে।