মাছুমা বেগম: মৌলবাদকে ঘৃণা করার ও তাদের ধ্বংস চাওয়ার একাধিক যুক্তি এবং কারণ রয়েছে, যা একেকজনের অনুভূতির উপর নির্ভর করে, তবে সাধারণভাবে বলতে গেলে, মৌলবাদী চেতনা ও আচরণ সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। নিচে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হলো, কেন কেউ মৌলবাদকে ঘৃণা করতে পারেন:
১. ধর্মীয় সহিষ্ণুতার অভাব: মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি সাধারণত নিজেদের ধর্মীয় বা আদর্শিক মতামতকে একমাত্র সঠিক হিসেবে দাবি করে এবং অন্যদের মতামতের প্রতি সহিষ্ণুতা বা সম্মান দেখায় না। তারা অন্য ধর্ম বা বিশ্বাসের মানুষের প্রতি ঘৃণা এবং বৈরিতা সৃষ্টি করে, যা সমাজে সহিংসতা ও অস্থিরতার সৃষ্টি করতে পারে।
২. সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি: মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি ধর্ম, জাতি, সংস্কৃতি বা রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে বিভাজন সৃষ্টি করে। এর ফলে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে দুরত্ব ও বৈরিতা বাড়ে, যা একটি শান্তিপূর্ণ ও একতা ভিত্তিক সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
৩. মানবাধিকার লঙ্ঘন: মৌলবাদী চিন্তা-ধারা সাধারণত মানুষের মৌলিক অধিকারকে অগ্রাহ্য করে। তারা বিশেষ করে নারীদের স্বাধীনতা, মুক্ত মতামত প্রকাশের অধিকার এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে অবমূল্যায়ন করে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকে পরিচালিত হয়।
৪. অথনৈতিক ও রাজনৈতিক উগ্রতা: মৌলবাদীরা প্র often রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ধর্মের অপব্যাখ্যা করে এবং এর মাধ্যমে সহিংস আন্দোলন বা কর্মকাণ্ডের পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। এই ধরনের কার্যকলাপ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সমাজের শান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
৫. সম্প্রীতি ও শান্তির বিরোধী: মৌলবাদী মতাদর্শগুলি সাধারণত সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি এবং সহানুভূতির ধারণাকে বাধাগ্রস্ত করে। তারা সংঘর্ষ এবং সহিংসতার পথ বেছে নেয়, যা সবার জন্য ক্ষতিকর।
এই কারণগুলির মাধ্যমে, মৌলবাদকে ঘৃণা করার পেছনে মূলত মানবিক মূল্যবোধ, শান্তি এবং সহিষ্ণুতার প্রতি বিশ্বাস রয়েছে। মৌলবাদী আচরণ সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে, যা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং জাতিগত ঐক্যকে ধ্বংস করে দেয়।
মৌলবাদকে ঘৃণা করার পেছনে আরো কিছু যুক্তি রয়েছে, যা সমাজে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন, মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি সাধারণত তাদের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য সহিংস পন্থা গ্রহণ করে, যা সমাজের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে। তারা কখনও কখনও শারীরিক সহিংসতা, ধর্মীয় অত্যাচার, বা রাজনৈতিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের লক্ষ্য অর্জন করার চেষ্টা করে, যা জাতির শান্তি এবং ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এছাড়া, মৌলবাদীরা বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা, শিক্ষার মুক্তির পথে বাঁধা দেয়। তারা আধুনিকতার বিরোধিতা করে এবং সমাজকে পিছিয়ে নিয়ে যেতে চায়, যেখানে কেবল ধর্মীয় শাসন বা একাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। এমন একটি পরিবেশ মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক উন্নতির জন্য বিপদজনক।
অতএব, মৌলবাদী চিন্তা-ধারা সমাজে বিভাজন, সহিংসতা ও অধিকার লঙ্ঘন সৃষ্টি করে, যা একটি শান্তিপূর্ণ ও উন্নত সমাজের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়।
ko9diw