বিএনপি নেতার দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজিতে অস্থির ফেঞ্চুগঞ্জ: নিরব পুলিশ প্রশাসন

ক্রাইম; দর্পন; ক্রাইম দর্পন; crime; crimedorpon; crimedarpan; dorpon; darpan; The Weekly Crime Dorpon; the weekly crime darpan; crimedorpon.com;

মোঃ হায়দার হোসেন: ফেঞ্চুগঞ্জে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে কিছু বিএনপি নেতা ও তাদের সমর্থকরা জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছেন। তবে, এই পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান সুফি ও তার অনুসারীরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে জমি দখল ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। তারা স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক এবং সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই বলছেন, এই নেতারা তাদের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে আইনের ঊর্ধ্বে থেকে অপরাধ করছেন।

উপজেলার বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলীম বলেন, “আমাদের জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে। আমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিএনপি নেতা সুফি ও তার কর্মীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছে না।” আরেকজন বাসিন্দা যোগ করেন, “চাঁদাবাজির কারণে আমাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার পথে। আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদের ওপর হামলা করা হয়।”

অভিযোগ রয়েছে যে পুলিশ প্রশাসন এই বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এই অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করছে। তারা প্রশাসনের কাছ থেকে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার চেয়েছেন। এক ব্যবসায়ী বলেন, “পুলিশ যদি একটু সক্রিয় হতো, তাহলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো না। আমরা অসহায় বোধ করছি।”

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক সংঘাত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে জটিল সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থাকায় অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

ফেঞ্চুগঞ্জের এই পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, প্রশাসন যদি সময়মতো ব্যবস্থা নিত, তাহলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এই বিষয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা অভিযোগ পেয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে, স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু তদন্তে সময় নষ্ট না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তারা চান, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা হোক।

এই ঘটনায় ফেঞ্চুগঞ্জের সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। তারা চান, যেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা আশা করছেন, সরকার ও প্রশাসন এই বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে।

উল্লেখ্য, ফেঞ্চুগঞ্জের এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। অনেকেই পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

এই ধরনের ঘটনা শান্তিপূর্ণ সমাজ বজায় রাখার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উচিত এই বিষয়ে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। এ ধরনের ঘটনার দ্রুত সমাধান অপরিহার্য, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে পারে এবং এলাকায় শান্তি ফিরে আসে।

One thought on “বিএনপি নেতার দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজিতে অস্থির ফেঞ্চুগঞ্জ: নিরব পুলিশ প্রশাসন

Leave a Reply to * * * Claim Free iPhone 16 * * * hs=019b3793ac5f5a365eb8ddb0bd4577c9* Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *