মোছা: ফাতেমা বেগম: বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত শিবির এবং বিএনপির সমর্থকদের সন্ত্রাসী হামলার কারণে সাধারণ মানুষ আজ চরম বিপদে পড়েছে। এসব সহিংসতার ফলে জনগণের জীবনে অশান্তি এবং আতঙ্ক ছড়িয়েছে, এবং তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, পুলিশ বাহিনীর নিরবতা এবং কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে এসব হামলা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করছে। গত কয়েক সপ্তাহে জামায়াত শিবির এবং বিএনপির সমর্থকরা দেশে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এবং সাধারণ মানুষের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে হামলা। সন্ত্রাসী হামলার কারণে অনেক জায়গায় রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে, ট্রান্সপোর্ট সেবা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণ অভিযোগ করছে যে, তারা পুলিশের কাছে সাহায্য চাইতে গেলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি,চাদাবাজি ও নানা অপকর্মের সাথে পুলিশ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।অনেক মানুষ বলছেন, পুলিশ একেবারেই নিরব, এবং তারা সহিংসতা বন্ধ করতে কোন তৎপরতা চালাচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, সাধারণ পথচারী—সবাইই এই সহিংস হামলার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় জনগণ জানাচ্ছেন, তারা রাস্তা বন্ধ, গাড়ি পোড়ানো এবং সরকারি অফিসে হামলার কারণে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালাতে পারছেন না। এমনকি বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষের বাসস্থানও সন্ত্রাসী হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একটি স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আমার দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি পুলিশকে খবর দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরিস্থিতি এমন যে, এখন আমি জানি না কী করব।
এ ব্যাপারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। এমন পরিস্থিতিতে, যখন জামায়াত শিবির ও বিএনপির সমর্থকরা সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ করছে, পুলিশ কেন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে না? পুলিশ বাহিনী নিজেদের নিরবতা নিয়ে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে, যা জনগণের মধ্যে আরও বড় ধরনের হতাশা সৃষ্টি করেছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা পুলিশের কাছে সহায়তা চেয়েছি, কিন্তু তারা একেবারে নির্বিকার। পরিস্থিতি যদি এমন চলতে থাকে, তাহলে কে আমাদের রক্ষা করবে?”
সরকারের পক্ষ থেকেও পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে বাস্তবে এই নির্দেশের কোনো কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
জামায়াত শিবির ও বিএনপির সন্ত্রাসী হামলার ফলে সাধারণ মানুষের জীবন আজ বিপন্ন। পুলিশ বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা এবং শান্তি নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীকে আরো দ্রুত, কার্যকর এবং জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজনৈতিক সহিংসতা রোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সকল পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।