ইয়াছমিন বেগম
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, জামায়াত নেতা মাওলানা আজহার অনিক ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক এক ব্যক্তির জমি দখল করে নিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুরমার আলী আহসান নামের এক বাসিন্দা তার পূর্বপুরুষের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি আদালতের রায়ে তিনি জমির মালিকানা পেয়েছেন। কিন্তু জমিটি ফের দখল করার চেষ্টা করছে জামায়াত মাওলানা আজহার অনিক ও তার সহযোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, জামায়াত নেতা ও তার অনুসারীরা জমিতে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে সেখানে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।
জমির মালিক জানান, আদালতের রায় পাওয়ার পর তিনি জমিটি ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করলে জামায়াত নেতা ও তার সহযোগীরা তাকে হুমকি দেন। তারা জমিতে অবৈধভাবে দালান তৈরি করে সেখানে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। আলী আহসান আরও বলেন, তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়েছেন, কিন্তু এখনও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, জমির মালিকের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং জামায়াত নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা দাবি করেছেন, অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধ করে জমির মালিককে তার জমি ফেরত দেওয়া হোক।
দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি জমির মালিক আলী আহসান ও জামায়াত নেতা মাওলানা আজহার অনিকের বক্তব্য শুনে প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তে যদি জামায়াত নেতা মাওলানা আজহার অনিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশও ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জমির মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ বলেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, জামায়াত নেতা মাওলানা আজহার অনিক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, জমিটি তার পূর্বপুরুষের সম্পত্তি এবং তিনি আইনানুগভাবে জমির মালিকানা দাবি করছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা তার এই দাবিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির রাজনৈতিক নেতা আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জমি দখলের মতো ঘটনা সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে। তিনি দাবি করেছেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, জমি দখলের মতো ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এ ঘটনায় ফেসবুক, ইউটিউবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অনেকে বলেছেন, জমি দখল ও অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধে সরকার ও প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের জীবনযাপন করতে চান। তারা দাবি করেছেন, জমি দখলের মতো ঘটনা বন্ধ করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
এই ঘটনা জমি দখল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে আবারও সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। আশা করা যায়, দ্রুতই তদন্ত শেষ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং জমির মালিককে তার জমি ফেরত দেওয়া হবে।