মোঃ হায়দার হোসেন: পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বহীনতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, পুলিশ কি আদৌ মানুষের পাশে দাঁড়াবে না? নাকি তাদের দায়িত্ব শুধু ক্ষমতাবানদের সেবা করা?
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বহীনতার কারণে অপরাধীরা দিন দিন সাহসী হয়ে উঠছে। চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক পাচার, নারী নির্যাতনসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। কিন্তু পুলিশের তরফ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা পুলিশের কাছে গেলে তারা আমাদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে নেয় না। অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কিন্তু পুলিশ কিছুই করছে না।”
অন্য একজন বাসিন্দা যোগ করেন, “পুলিশের কাজ কি শুধু ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ আর ভিআইপিদের নিরাপত্তা দেওয়া? সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব কি তাদের নেই?” এই প্রশ্নগুলো এখন সমাজের বিভিন্ন স্তরে আলোচিত হচ্ছে।
সম্প্রতি সিলেট, ফেঞ্চুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের গোপন আস্তানা থেকে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ এই আস্তানাগুলো সম্পর্কে জানার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এতে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা অভিযোগ পেয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে, স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু তদন্তে সময় নষ্ট না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তারা চান, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা হোক।
এই ঘটনায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। তারা চান, যেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা আশা করছেন, সরকার ও প্রশাসন এই বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। অনেকেই পুলিশ প্রশাসনের সমালোচনা করছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
এই ধরনের ঘটনা শান্তিপূর্ণ সমাজ বজায় রাখার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উচিত এই বিষয়ে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। এ ধরনের ঘটনার দ্রুত সমাধান অপরিহার্য, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে পারে এবং এলাকায় শান্তি ফিরে আসে।
জনগণের প্রশ্ন, পুলিশ কি আদৌ মানুষের পাশে দাঁড়াবে? নাকি তাদের দায়িত্ব শুধু ক্ষমতাবানদের সেবা করা? এই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ই দেবে।