মাসুদা আক্তার: দেশের ধান-চালের বাজারে অস্থিরতার জন্য অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে মিল মালিকদের দিকে। দ্বিতীয় দফায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে, ধান-চালের জেলাগুলো সফর করে মিল মালিকদের কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। অভিযানও হয়েছে দফায় দফায়। তবে মন্ত্রীর ভাইয়ের মালিকানাধীন ‘সাবিত্রী মিলে’ কখনও অভিযান চালানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভাতেও খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন সাধন চন্দ্র মজুমদার। দায়িত্ব নিয়েই চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে তড়িঘড়ি করে মাঠে নামেন তিনি। নিজ জেলা নওগাঁ তো বটেই, সফর করেন ধান-চালের শীর্ষ মোকাম কুষ্টিয়া, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়াসহ কয়েকটি জেলা।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রী বলেন, ‘মিল মালিকরা শিয়ালের চেয়েও ধূর্ত। একটি শিয়াল ডাকলে যেমন সব শিয়াল ডেকে উঠে, তাদের অবস্থাও এখন তেমন।’
তিনি বলেন,
আগে একটা খাদ্য অভিযানে গেলে ব্যবসায়ীদের মনে ভয়ে কাপাকাপি শুরু হতো, কিন্তু এখন ভয় পায় না কেন?
কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কোনো গোপন আঁতাত আছে কিনা সেটা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী।
এছাড়া তিনি বৈঠক করেন মিল মালিকদের সঙ্গেও। সেই বৈঠকে মিল মালিকদের হুঁশিয়ারিও করেন খাদ্যমন্ত্রী এবং বলেন, বস্তার গায়ে লিখতে হবে দাম এবং জাত। চাল নিয়ে চালবাজি করলে রেহাই মিলবে না কারো। নতুন আইনে সব ফাঁকফোকর ধরা পড়বে বলেও কড়া বার্তা দেন তিনি। তবে এসব কিছুর আড়ালে থেকে যায় মন্ত্রীর পারিবারিক ব্যবসার আদ্যোপান্ত। কয়েক দশক ধরে কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাধনচন্দ্র বর্তমানে সরাসরি ধান-চালের কারবারে জড়িত নন। তবে তার ভাই মনোরঞ্জন মজুমদার নওগাঁয় ধানচালের ব্যবসা দেখভাল করছেন। তাদের ‘সাবিত্রী চালকল’সহ নওগাঁর আরও কিছু মিল মালিক নিয়ন্ত্রণ করেন এই চালের বাজার। অভিযোগ আছে সাবিত্রী মিল এবং এর গোডাউনে কখনোই কোনো অভিযান হয়নি। এমনকি নিজের জেলা নওগাঁতেও চালের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার পরেও পারিবারিক এই মিল থাকে অভিযানের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
পারিবারিকভাবে এই খাতে অভিজ্ঞ মন্ত্রী তাহলে কী কারণে ব্যর্থ হচ্ছেন চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে, যেখানে সাধারণত রমজানে দাম বাড়ে না ধান-চালের। কিন্তু এবারই উল্টো চিত্র! সরু এবং মোটা সব ধরণের চালের দামই ঊর্ধ্বমুখী।
ধান চালের বাজার নিয়ে দেশে যখন তুলকালাম তখন ব্যক্তিগত সফরে বুধবার থাইল্যান্ড গেলেন খাদ্যমন্ত্রী। ৬ দিনের এই সফরের আগে মিন্টোরোডের বাসায় তার সঙ্গে সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কথা বলার চেষ্টা করা হলে; ‘এই মুহূর্তে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না’ বলে জানান সময় সংবাদকে। অন্য ইস্যু হলে হয়তো কথা বলতেন; কিন্তু ধান-চালের বিষয়ে মুখে কুলুপ আঁটেন মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-১ থেকে আবারও নির্বাচিত সাধন চন্দ্রের হলফনামা বলছে, ২০০৮ সালেও তিনি ছিলেন লাখপতি। কিন্তু এখন তিনি কোটিপতি।