মাছুমা বেগম: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) একটি গুরুত্বপূর্ণ দল হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই দলের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে দেশবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে খুন, ছিনতাই, ডাকাতি এবং সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে যাত্রীদের কাছ থেকে জিনিসপত্র ছিনতাই, সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাপকভাবে ব্যাঘাতের সম্মুখীন হচ্ছেন।
বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উপর হামলা এবং ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এসব ঘটনায় তারা আতঙ্কিত এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু এবং বয়স্করা এসব সহিংসতার কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে বিএনপি সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক খুন এবং বহু দোকানপাট লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেক ব্যবসায়ী জানান, তাদের দোকানপাট লুট হওয়ার কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদের পরিবারের ভরণপোষণে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
দেশবাসী বিএনপির নেতৃত্বের কাছে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য সহিংসতা কোনো সমাধান নয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির উচিত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করা এবং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা।
এদিকে, বিএনপি নেতারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এটি সরকারের ষড়যন্ত্র। তারা দাবি করেন, সরকার বিএনপিকে দমন করার জন্য এসব অভিযোগ তৈরি করছে। তবে সাধারণ মানুষের মতে, রাজনৈতিক লক্ষ্য যাই হোক, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তা অর্জনের চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রভাবে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সম্মিলিতভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করা।
সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করতে। এছাড়াও, সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অপরিহার্য। বিএনপি নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করা এখন সময়ের দাবি। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত জনগণের কল্যাণে কাজ করা এবং দেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করা।