ইয়াহইয়া আহমদ তানহার: সম্প্রতি মাদক ব্যবসায় ছাত্রদল নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ছাত্রদল, যা বাংলাদেশের একটি প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠন, তার কিছু নেতা-কর্মীর এই ধরনের অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার খবর দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনা শুধু ছাত্রদলের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করছে না, বরং সমাজের যুবসমাজের জন্য একটি অন্ধকার দিক উন্মোচিত করছে।
প্রথমত, মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে উঠেছে, যা তাদের নৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ছাত্রদল দীর্ঘদিন ধরে দেশের ছাত্রসমাজের অধিকার আদায় ও উন্নয়নে কাজ করার দাবি করে আসলেও এই ধরনের ঘটনা তাদের দাবিকে ম্লান করে দিচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার ফলে ছাত্রদলের নেতারা শুধু নিজেরাই অপরাধের জালে জড়াচ্ছেন না, বরং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের মতো ধ্বংসাত্মক পথে পরিচালিত করছেন। মাদকের বিস্তার সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।
তৃতীয়ত, এই ধরনের অভিযোগ ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের দুর্বলতাকেও প্রকাশ করে দিচ্ছে। দলের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব যদি এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে তা দলের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত।
চতুর্থত, মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ শুধু ছাত্রদলের জন্যই নয়, বরং পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরা যদি এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, তবে তা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
পঞ্চমত, এই ধরনের ঘটনা সামাজিকভাবে ছাত্রদলের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ আশা করে যে ছাত্র সংগঠনগুলো দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে, কিন্তু এই ধরনের অভিযোগ সেই আশাকে ভেঙে দিচ্ছে।
সর্বোপরি, মাদক ব্যবসায় ছাত্রদল নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে দলটির উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে, সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। তবেই আমরা একটি মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে পারব।