আব্দুল্লাহ মোঃ তাহের: পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমাজে ক্রমাগত বিতর্ক ও সংশয় তৈরি হচ্ছে। পুলিশ, যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত, তাদের কর্মকাণ্ড অনেক সময়ই প্রশ্নের মুখে পড়ে। সাধারণ মানুষের মনে এই প্রশ্ন জাগে, পুলিশ কি আসলে জনগণের বন্ধু, নাকি শত্রু? পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে—দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, গুম, নির্যাতন, মামলা ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, এমনকি সাধারণ মানুষের অধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। এই ধরনের ঘটনাগুলো পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো তাদের দ্বারা সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যরা তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, নির্যাতন এমনকি গুমের শিকার করছেন। এই ধরনের ঘটনাগুলো শুধু পুলিশের ভাবমূর্তিই নষ্ট করছে না, বরং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থাকেও ধ্বংস করছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার অভাব এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, পুলিশের কিছু ইতিবাচক ভূমিকাও রয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্য আন্তরিকতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন এবং জনগণের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে পুলিশের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডই বেশি আলোচিত হচ্ছে, যা তাদের ইতিবাচক ভূমিকাকে ঢেকে দিচ্ছে।
পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে তাদের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি, পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মতো উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। শুধু তখনই পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসেবে দেখা সম্ভব হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা ফিরে আসবে।