নাদিয়া আক্তার: জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনপুষ্ট শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ একটি সুপরিচিত চাদাবাজি চক্র পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে। তার এই কর্মকাণ্ডে জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতা-কর্মী সরাসরি সম্পৃক্ত থাকায় বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, মাসুদ তার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে এবং যারা তার নির্দেশ মানতে অস্বীকার করে, তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হয়। অনেকেই তার এই স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলেও, জামায়াতে ইসলামীর যোগসাজশের কারণে তা কার্যকরভাবে দমন করা সম্ভব হচ্ছে না।
মাসুদের চাদাবাজির শিকার অনেকেই জানান, তারা নিয়মিতভাবে বড় অঙ্কের টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন, অন্যথায় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বা দৈনন্দিন জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। কিছু ক্ষেত্রে মাসুদের অনুসারীরা সরাসরি দোকানপাট বা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করে নিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভয় ও চাপের মধ্যে জীবনযাপন করলেও, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় তারা নিরুপায় হয়ে পড়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতা মাসুদের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করায় এই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক মহলেও এই ইস্যু নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। অনেকের মতে, মাসুদের চাদাবাজি বন্ধ করতে না পারলে এলাকায় অপরাধ ও সহিংসতা আরও বাড়বে। এছাড়া, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর উচিত এই ধরনের অসৎ নেতাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া এবং তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করা। অন্যথায়, সংগঠনটির ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ণ হবে এবং জনগণের মধ্যে তাদের প্রতি অসন্তোষ বাড়তে থাকবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে এই ইস্যুতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যাতে মাসুদের মতো চাদাবাজরা আর সমাজে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যেতে না পারে।