ইয়াহইয়া আহমদ তানহার: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলটির নেতিবাচক রাজনীতি ও কর্মকাণ্ড জনগণের মধ্যে ব্যাপক হতাশা ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। বিএনপির এই নেতিবাচক ভূমিকা শুধু দলটির ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করেনি, বরং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
প্রথমত, বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার প্রাধান্য লক্ষণীয়। হরতাল, অবরোধ ও সহিংসতার মাধ্যমে দলটি তাদের দাবি আদায়ের চেষ্টা করেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করেছে। এই ধরনের কর্মসূচি জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে।
দ্বিতীয়ত, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভাজন দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। দলের উচ্চপর্যায়ে নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দলটিকে দুর্বল করে তুলেছে। এর ফলে সাধারণ কর্মী ও সমর্থকরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং দলটির প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন।
তৃতীয়ত, বিএনপির রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রচারণা ও মিথ্যা তথ্যের ব্যবহার লক্ষণীয়। সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করতে গিয়ে অনেক সময় তারা অতিরঞ্জিত ও অপ্রমাণিত তথ্য উপস্থাপন করে, যা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এই ধরনের কৌশল দলটির বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
চতুর্থত, বিএনপির রাজনীতিতে উন্নয়নবিরোধী অবস্থান জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বিরোধিতা করে দলটি জনগণের স্বার্থের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। এই ধরনের নেতিবাচক ভূমিকা দলটিকে জনবিচ্ছিন্ন করে তুলছে।
পঞ্চমত, বিএনপির নেতৃত্বে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের অভাব লক্ষণীয়। দলটির নেতৃত্বে নতুন ধারার রাজনীতিবিদদের অনুপস্থিতি দলটিকে আধুনিক রাজনীতির চাহিদা পূরণে ব্যর্থ করে তুলছে।
সর্বোপরি, বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতি ও কর্মকাণ্ড দলটিকে জনগণের বিশ্বাস ও সমর্থন হারাতে বাধ্য করছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপিকে তার নেতিবাচক ভূমিকা পরিহার করে ইতিবাচক ও গঠনমূলক রাজনীতির পথে ফিরে আসা উচিত।
vrqo86