আব্দুল্লাহ মোঃ তাহের: সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানেন বিরুদ্ধে ১৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দেশে একটি অত্যন্ত গুরুতর ও সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। এই অভিযোগ শুধু সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে থাকা একজন ব্যক্তির সততাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে না, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে। সেনাবাহিনী একটি দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্খলাবদ্ধ ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। তাই এর প্রধান ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা অবশ্যই দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরা উচিত। কিন্তু সরকারের নীরবতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও বিতর্কিত করে তুলেছে।
এই অভিযোগের বিষয়ে সরকারের নীরবতার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। হতে পারে সরকার অভ্যন্তরীণ তদন্তের প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে, বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার জন্য বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য। বিশেষ করে যখন এত বড় অঙ্কের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তখন সরকারের উচিত বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া। সরকারের নীরবতা সাধারণ মানুষের মনে সংশয় ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, কেন এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না?
এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ তদন্ত ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। যদি অভিযোগ সত্য হয়, তবে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর যদি অভিযোগ মিথ্যা হয়, তবে তা জনসমক্ষে প্রমাণ করে সংশয় দূর করা উচিত। কিন্তু সরকারের নীরবতা এই ইস্যুতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জনগণ চায় দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং এর ফলাফল জানতে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে এই ধরনের অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া জরুরি। শুধু তখনই সেনাবাহিনীর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা অটুট থাকবে এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। সরকারের উচিত এই ইস্যুতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের আস্থা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করা।